অধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষক বরখাস্ত, পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা শনিবার থেকে

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, শাখাপ্রধান জিনাত আখতার এবং অরিত্রীর শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বুধবার ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত হয় বলে বডির চেয়ারম্যান গোলাম আশরাফ তালুকদার জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে সভায় আগামী শনিবার থেকে পূর্বনির্ধারিত রুটিনে আবার পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বুধবারের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী শুক্রবার এবং বৃহস্পতিবারের পরীক্ষা হবে সব শেষে ১১ ডিসেম্বর। অর্থাৎ ১০ ডিসেম্বর যেখানে পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন পরীক্ষা শেষ হবে ১১ ডিসেম্বর।

গোলাম আশরাফ তালুকদার বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুাযায়ী পরিচালনা পরিষদের সভা ডেকে ওই তিনজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া শনিবার থেকে পূর্বনির্ধারিত রুটিনে আবার পরীক্ষা হবে।

গত রোববার পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল অরিত্রি অধিকারী (১৫)। ফোনে নকল থাকার অভিযোগ তুলে তাকে পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার করা হয়।

এরপর ওই ছাত্রীর বাবা-মাকে ডেকে পাঠায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। সোমবার সকালে তারা স্কুলে যান এবং মেয়ের হয়ে দফায় দফায় ক্ষমা চান। কিন্তু এরপরও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাদের অপমান করেন এবং স্কুল থেকে অরিত্রি অধিকারীকে ছাড়পত্র দেওয়ার ঘোষণা দেন।

নিজের সামনে বাবা-মায়ের এমন অপমান সইতে না পেরে ওইদিন দুপুরে শান্তিনগরের বাসায় ফিরে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে ওই ছাত্রী। ওই ঘটনার জেরে মঙ্গলবার শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠে বেইলি রোডে ভিকারুননিসার ক্যাম্পাস।

বুধবারও চলে আন্দোলন। এসময় অধ্যক্ষের পদত্যাগ ও তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচণার দায়ে শাস্তিসহ ছয় দফা দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা। বিকেলে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেয় তারা।

এর আগে দুপুরে এই ঘটনায় গঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সারাংশ তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এতে বলা হয়, অভিযুক্তরা মানসিকভাবে অরিত্রিকে বিপর্যস্ত করে তোলে এবং তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে। এ জন্য কমিটি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলেছে।

এ ছাড়াও তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে ওই তিনজনকে বরখাস্ত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডকে পৃথক চিঠি দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে র‌্যাব-পুলিশকেও এ বিষয়ে ব্যবস্থার অনুরোধ জানানো হয়।

এদিকে মঙ্গলবার রাতে অরিত্রির আত্মহত্যার ঘটনায় থানায় একটি মামলা করেছেন তার বাবা। এই মামলায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতি শাখার প্রধান জিন্নাত আরা এবং অরিত্রির শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনাকে আসামি করা হয়েছে।

শেয়ার করুন:
  • 7
    Shares

You May Also Like