আবারো সহিংসতার প্রস্তুতি; অনুমতির অপেক্ষায় বিএনপি

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি জামায়াতের সন্ত্রাস রাজত্বের ক্ষত আজও শুকায়নি। শত শত যানবাহনে আগুন, পেট্রোল বোমায় জর্জরিত জিম্মি বাংলাদেশ সেসময় হারিয়েছিল তিনশোরও অধিক তাজা প্রাণ, পঙ্গুত্ব বরণ করে নিয়েছিল বহু মানুষ, গৃহহীন হয়েছিল অসংখ্য ‍হিন্দু সংখ্যালঘু পরিবার। আগুন ‍দিয়েছিল দুই হাজার ৯০৩টি গাড়িতে, আটটি রেলগাড়ি, আটটি যাত্রীবাহী জাহাজে। গাছ কেটে রাস্তা অবরোধ করে মহাশশ্মানে পরিণত করা হয়েছিল চির সবুজ বাংলাকে। নির্বাচনের দিনই হত্যা করা হয়েছিল ২৬ জন প্রিজাইডিং অফিসারকে। আগুন দেয়া হয়েছিল পাঁচ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র কিছু দিন বাকি। মনোনয়ন বাছাইয়ের পর চূড়ান্ত হচ্ছে মনোনীত প্রার্থীর তালিকা। এরই মাঝে ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছে বিএনপির অংশগ্রহনমূলক নির্বাচনী যাত্রা। কারণ বিএনপির সিংহভাগ প্রার্থীর নামে রয়েছে একাধিক মামলা, রয়েছে অবৈধ সম্পত্তির পাহাড়। অবৈধভাবে টাকার পাহাড় গড়া, মিথ্যে তথ্য যাচাই বাছাইয়ে বাদ পড়ছে অনেক প্রার্থী। এই বাতিলের খাতা ভারী হচ্ছে প্রতিদিন। নিজেদের কুকর্মের জন্য বাদ পড়ছে মনোনয়ন তালিকা থেকে। তাই নির্বাচনকে বাঁধাগ্রস্থ করতে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে দলটি।

আগামী ১০ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভার করতে চেয়েছে ঐক্যজোট। দলীয় প্রার্থীদের দেউলিয়াপনা, নেতৃত্বশূন্য জোট, দলীয় বিভক্তি, তৃণমূল পর্যায়ে কর্মী অসন্তোষে বিক্ষিপ্ত জোট জনসভার নামে নিষিদ্ধ জামায়াত শিবিরকে ছায়াতলে এনে আরেকটি সহিংসতার সাক্ষী করতে চায় এদেশকে। যার আভাস পাওয়া গেছে ১৫ নভেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির মনোনয়ন সংগ্রহ করতে লেলিয়ে দেয়া কর্মীদের পুলিশের ওপর হামলা, পুলিশের গাড়িতে আগুনের ঘটনায়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল হতে জামায়াতের কর্মীদের এনে ঢাকার রাস্তা অবরোধ করে নাশকতা চালিয়ে নির্বাচন ভণ্ডুল করা ছাড়া আর কোনো উপায় দেখছেন না বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা।

শেয়ার করুন:
  • 639
    Shares

You May Also Like