বিএনপি-জামায়াতকে ক্ষমতায় দেখতে মরিয়া আইএসআই

আগামী ৩০ ডিসেম্বর হতে যাচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে দেখা হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষ আওয়ামী লীগ ও তথাকথিত ইসলামপন্থী বিএনপি-জামাতের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ হিসেবে। এই ইস্যুতে যেখানে দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভারত পুরোপুরি নীরব ভূমিকায় রয়েছে, সেখানে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই তাদের দীর্ঘদিনের মিত্র বিএনপি-জামায়াতের জয় নিশ্চিত করতে তুমুলভাবে সক্রিয় রয়েছে। পাকিস্তান বাংলাদেশে ভারতবিরোধী শক্তিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়।

আইএসআই এর কঠিন খেলাঃ

আইএসআই বিএনপি-জামায়াতকে আগামী ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পরে সরকার গঠন করতে দেখতে চায়। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, আইএসআই আগামী নির্বাচনকে ইসলামাবাদ ও নয়াদিল্লীর মধ্যকার যুদ্ধ হিসেবে দেখছে। তারা ভারতবিরোধী বিএনপি-জামায়াতের ভূমিধ্বস বিজয় দেখতে চায়। এ লক্ষ্যে তারা ইতোমধ্যে বিএনপির পলাতক নেতা তারেক রহমানের সাথে লন্ডনে দেখা করেছেন। সেইসাথে জামায়াত নেতা ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের সাথেও দেখা করেন তারা। উভয়কেই তারা লক্ষ্য অর্জনে সম্ভাব্য সকল সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এই ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট ও কংগ্রেসের সাথেও যোগাযোগ করেছে আইএসআই। লক্ষ্য একটাই, বিএনপি-জামায়াতের পক্ষে ওয়াশিংটনের সমর্থন আদায় করা।

জামায়াত একটি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী দলঃ
সন্ত্রাসবিরোধী একাধিক সংগঠন ও ব্যক্তির সূত্রে জানা যায়, জামায়াত একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন, যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, কানাডাসহ পশ্চিমা দেশগুলোতে যার নেটওয়ার্ক রয়েছে। জামায়াত নেতারা সরাসরি তালেবান নেতাদের সমর্থন জানিয়েছেন এবং তাদের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন। ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরকার হিজবুল মুজাহিদীনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে, যেটি কাশ্মীরের একটি জিহাদী গ্রুপ এবং পাকিস্তান জামায়াত ইসলামীর সামরিক দল।

জামায়াতের ঘনিষ্ঠ হিযবুল মুজাহিদীন সন্ত্রাসী সংগঠনঃ
২০১৭ সালের ১৬ আগস্টের এক রিপোর্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ জানায় হিযবুল মুজাহিদীনকে তারা সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এ প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সকল নাগরিককেও এই সংগঠনের সাথে যেকোনো যোগাযোগ করতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হিযবুল মুজাহিদীন কাশ্মীরের সবচেয়ে বড় ও পুরাতন জঙ্গীদল। বাংলাদেশের জামায়াত ইসলামীর সাথে তাদের রয়েছে নিবিড় যোগাযোগ।

জামায়াতের বিস্তৃতি সম্পর্কে আরো……
আভা শংকর ও স্যাম ওয়েস্টরপ আরও লিখেন ‘ আমেরিকায় জামায়াতের অনুসারীরা কিছু প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। সেইসব প্রতিষ্ঠান এবং এর সাথে সংশ্লিষ্টেরা পাকিস্তান ও বাংলাদেশ- উভয় দেশের জামায়াত ইসলামীকে সাহায্য করেন।’

এমনকি, জামায়াতের শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী আশরাফুজ্জামান খান যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং সেখানে অবস্থানরত জামায়াত অনুসারীদের বিভিন্ন মিথ্যাচারে কাজে লাগান। অনুসন্ধানে জানা যায়, আশরাফুজ্জামান খান ছিলেন কুখ্যাত বদর বাহিনীর প্রধান সমন্বয়ক। তার নেতৃত্বেই এই বাহিনী অধ্যাপক, সাংবাদিক, চিকিৎসকদের বেছে বেছে হত্যা করে, যাতে দেশে এক শূন্যতার সৃষ্টি হয়।

এমনকি ভ্রান্ত মতবাদের জনক, জামায়াতের মওদুদীর বইও যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিমদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

পাকিস্তান, বিএনপি,জামায়াত এবং উগ্রপন্থী শক্তিগুলো চাচ্ছে বিএনপি-জামায়াতকে ক্ষমতায় বসাতে। যেকোনো মূল্যে তারা বাংলাদেশের স্যাকুলার সরকারের পতন চায়। এর মাধ্যমে তাদের জন্য বাংলাদেশকে সিরিয়ার পথে নিয়ে যাওয়া একদমই সহজ হয়ে যাবে। স্মরণ করা যেতে পারে যে, বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে দেশ জঙ্গীবাদের অভয়ারণ্যে হয়ে উঠেছিলো। ঢাকার প্রাণকেন্দ্র পল্টনেই স্লোগান দেয়া হয়েছিলো, ‘আমরা সবাই তালেবান, বাংলা হবে আফগান’।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাংলাদেশকে সিরিয়া হবার হাত থেকে রক্ষা করতে পারেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উগ্র বিএনপি-জামায়াত জোটের বিরুদ্ধে তাঁর প্রশাসনের কঠোর অবস্থানই পারে বাংলাদেশের স্থিতি নিশ্চিত ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে।

শেয়ার করুন:
  • 262
    Shares

You May Also Like