আসন বণ্টনের সমীকরণ: জামায়াতে ধরাশয়ী কামাল মান্নারা

দরজায় কড়া নাড়ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একাদশ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে থাকা শরিক দলগুলোর সাথে চূড়ান্ত আসন বণ্টনের কাজ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটে আসন বণ্টন নিয়ে অসন্তোষ চোখে না পড়লেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলোর অসন্তোষ অনেকটাই প্রকাশ্যে চলে এসেছে। শরিক দলগুলোকে দেয়া কথা না রাখায় বিএনপির ওপর নাখোশ দলগুলোর অন্যতম নেতা কামাল, মান্না।

শনিবার রাতেই শেষ হয়ে গেছে বিভিন্ন দলের পাঁচ শতাধিক মনোনয়নপত্রের ওপর নির্বাচন কমিশনে করা আপিলের শুনানি। তাতে অনেকে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন, আবার অনেকের মনোনয়নপত্র চূড়ান্তভাবে বাতিল হয়ে গেছে। অবশ্য দু’একটি ক্ষেত্রে আইনী প্র্রক্রিয়া এখনো চলছে।
বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা ২৯৮টি আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছে। বিএনপি তাদের ২০ দলীয় ঐক্যজোটের শরিক সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের ধারক জামায়াতে ইসলামীকে ২৫টি আসন দিয়েছে। এছাড়াও কামালের গণফোরাম, মান্নার নাগরিক ঐক্যসহ অন্যান্য শরিক দলগুলোকে আসন দিয়েছে ১৭টি। ফলশ্রুতিতে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে যে জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটেছিলো, ক্রমশই সেই ঐক্যের জোটে অনৈক্য ফুটে উঠছে।

এছাড়া বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পাওয়া নেতাদের অনেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যোগ্য নেতাদের বাদ দিয়ে জামায়াতের যুদ্ধাপরাধী প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়াতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীরা। জানা যায়, টাকার বিনিময়ে জামায়াতের বিভিন্ন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি।
এ নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপির তৃণমূলে দেখা দিয়েছে ব্যাপক অসন্তোষ। একদিকে সারাবছর আন্দোলন সংগ্রামে থাকা নেতারা হয়েছেন বঞ্চিত। অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্টের অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীও মনোনয়ন পাননি। এজন্য ঐক্যফ্রন্টের কামাল মান্নাসহ মনোনয়ন বঞ্চিত বিএনপির ত্যাগী নেতারা দায়ী করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানকে। জামায়াতের মতো যুদ্ধাপরাধী ও দেশবিরোধী শক্তিকে মূল্যায়ন করে বিএনপি তাদেরকে অবমূল্যায়ন করেছে বলে মনে করছে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা।

এখন পর্যন্ত জামায়াত ইসলামীর যেসব নেতার মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়েছে তারা হলেন- ঢাকা-১৫ আসনে ডা. শফিকুর রহমান, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে রফিকুল ইসলাম খান, খুলনা-৬ আসনে আবুল কালাম আজাদ, কুমিল্লা-১১ আসনে সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, খুলনা-৫ আসনে মিয়া গোলাম পারোয়ার, চট্টগ্রাম-৭ আসনে শামসুল ইসলাম, কক্সাবাজার-২ আসনে হামিদুর রহমান আযাদ, পাবনা-৫ আসনে ইকবাল হোসাইন, যশোর-২ আসনে আবু সাঈদ মো. শাহাদাত হোসাইন, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে আবদুল হাকিম, দিনাজপুর-১ আসনে আবু হানিফ, দিনাজপুর-৬ আসনে আনোয়ারুল ইসলাম, নীলফামারী-৩ আসনে আজিজুল ইসলাম, গাইবান্ধা-১ আসনে মাজেদুর রহমান, সাতক্ষীরা-২ আসনে মুহাদ্দিস আবদুল খালেক, সাতক্ষীরা-৪ আসনে গাজী নজরুল ইসলাম এবং পিরোজপুর-১ আসনে শামীম সাঈদী।
এদের মধ্যে খুলনা-৬ আসনের মিয়া গোলাম পরোয়ারের বিরুদ্ধে রয়েছে যুদ্ধাপরাধের মামলা। পিরোজপুর-১ আসনের শামীম সাইদী কুখ্যাত রাজাকার সাঈদীর পুত্র। অন্যান্য সকল প্রার্থীর বিরুদ্ধেই জঙ্গীবাদে মদদদান ও দেশদ্রোহী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবারো ভুল পথে এগোচ্ছে বিএনপি। দল মত নির্বিশেষে এদেশের সকল মানুষ যুদ্ধাপরাধীদের দল হিসেবে পরিচিত জামায়াতকে পছন্দ করে না, সেক্ষেত্রে জামায়াত নেতাদের মনোনয়ন দেয়াটা বিএনপির পক্ষ থেকে অনেকটা আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের সামিল।

শেয়ার করুন:
  • 2.9K
    Shares

You May Also Like