তারেকের রোষানলে পরে মনোনয়ন বঞ্চিত বিএনপির সিনিয়র নেতারা

নির্বাচনী ডামাডোল শুরু হয়ে গেছে। এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে আনুষ্ঠানিক প্রচার। ভোটের লড়াই মাঠে গড়াতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। দর কষাকষি শেষ করে বড় দুই দল ও জোট ৩০০ আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে রোববার পর্যন্ত সময় নিলেও বিপাকে পড়েছে বিএনপি। মনোনয়ন বঞ্চিত নেতা কর্মীদের সমন্বয়হীনতা, অসন্তোষ, বিক্ষোভে দলের হাইকমান্ড কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। প্রতিটি আসনের বিপরীতে একাধিক প্রার্থীর নিকট হতে অর্থ বাণিজ্য, জামায়াতকে অধিকতর গুরুত্ব প্রদান করে ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে আসন প্রদানের কারণে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থায় দলটির নির্বাচনী যাত্রা মলিন হয়ে গেছে। তারেকের রোষানলের কবলে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন একাধিক সিনিয়র নেতা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন- রুহুল কবির রিজভী, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শামসুজ্জামান দুদু, আব্দুল আউয়াল মিন্টুসহ আরো অনেকে।

এরই মধ্যে গুলশানের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মনোনয়ন বাণিজ্যের শিকার হাজার হাজার নেতা কর্মীর বিক্ষোভ ভাংচুরে অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে বিএনপি। দুর্নীতির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামী তারেক রহমানের স্বেচ্ছাচারিতা, অর্থ আদায়, দলের নেতাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, মতামতের অবমূল্যায়ণ, জামায়াত প্রীতিকে দায়ী করছেন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারেক রহমানের স্বেচ্ছাচারিতায় দলীয় কোন্দল এখন প্রকাশ্য। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতে দলটি এখন দ্বিধা বিভক্ত।
এতদিন গোপন থাকলেও আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে তা প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। সময়ে-অসময়ে দলের ত্যাগী ও সিনিয়র নেতাদের সাথে খারাপ ব্যবহারের দুর্নাম আগে থেকেই রয়েছে তারেক রহমানের। এমন ব্যবহারে নেতারা ত্যক্ত বিরক্ত। যার প্রভাব এখন দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছে তৃণমূলের নেতা কর্মীরা। এদিকে সাজাপ্রাপ্ত তারেক রহমান দলে ও জোটে তার নিজের অবস্থান নিয়েও শঙ্কিত। তার কমান্ড মানতে নেতাদের এমন গড়িমসিতে হতাশ তারেক রহমান।

এদিকে ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে আসন বণ্টন নিয়ে মতানৈক্য, নেতাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, সমন্বহীনতায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে ইতোমধ্যেই। দল থেকে পদত্যাগ করছেন ত্যাগী ও পরিশ্রমী নেতা কর্মীরা।
মনোনয়ন বঞ্চিত হবার পর নেতা কর্মীরা এখন প্রকাশ্য অবস্থান নিয়েছেন এবং দল থেকে পদত্যাগ করছেন। গত রেবাবার দল থেকে পদত্যাগ করেন বিএনপির পরীক্ষিত কর্মী কণ্ঠশিল্পী মনির খান। যিনি ২০ বছর যাবত দলের জন্য কাজ করছিলেন। প্রেসক্লাবে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি পদত্যাগ করার সময় দলের শৃঙ্খলাহীনতা, অর্থ বাণিজ্য, স্বেচ্ছাচারিতা, সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করেন। নিজ দলের ত্যাগী নেতা কর্মীদের প্রাধান্য না দিয়ে যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতাদের মনোয়ন দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। উল্লেখ্য, তারেক রহমানের নির্দেশে ঝিনাইদহ-৩ আসনে মনির খানকে বাদ দিয়ে মনোনয়ন দেয়া হয় ঝিনাইদহ জামায়াতের সেক্রেটারি মতিয়ার রহমানকে।
দল থেকে প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়ার পরও নির্বাচন কমিশনের যাচাই বাছাইয়ে বৈধ প্রার্থী হয়েও বাদ পড়েন অনেক ত্যাগী নেতা কর্মী। চারদলীয় জোট সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরশেদ খান যাচাই বাচাইয়ের পর প্রার্থীতা ফিরে পেলেও হঠাৎ দল থেকে মনোনয়ন আটকে দেয়া হয়। মোরশেদ খানকে বাদ দিয়ে চট্টগ্রাম-৮ আসনে তারেকের নির্দেশে মনোনয়ন দেয়া হয় আবু সুফিয়ানকে। জানা গেছে লন্ডনে তারেক রহমানের সাথে দেখা করার পরই হঠাৎ দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন পান আবু সুফিয়ান।
চাঁদপুর-১ আসনে বিএনপির সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের প্রার্থীতা বাতিলের পর গুলশান বিএনপির কার্যালয় সারাদিন অবরুদ্ধ করে রেখেছিল হাজার হাজার কর্মীরা। মিলনের আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন মনোনয়ন বাণিজ্যের অন্যতম হোতা মোশারফ হোসেন।

এভাবে অনেক আসনেই টাকা দিয়েও মনোনয়ন বঞ্চিত নেতা কর্মীরা প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে এখন প্রকাশ্যে অভিযোগের তীর ছুঁড়েছেন তারেক রহমানের দিকে। তারেক রহমানের ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি, স্বেচ্ছাচারিতা, অন্যায় আবদার হুকুমে গাঁট ছেড়েছেন রুহুল কবির রিজভী, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিবুন নবী খান সোহেলসহ একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা।
তারেক রহমানের স্বেচ্ছাচারিতা ও দ্বিমুখী নীতির প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে এদের কেউই এবার কোনো আসনে প্রার্থী হন নি।
প্রতিনিয়ত তারেকের রোষানলে পরে নানা উপায়ে নিগ্রহের শিকার হয়েছেন দলের একাধিক সিনিয়র নেতা। তারেক রহমান বিএনপির জন্য আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ, তা ভাবার সময় এসেছে দলটির নেতা কর্মীদের- এমনটাই মনে করেন বিএনপিপন্থী একধিক বুদ্ধিজীবী।

শেয়ার করুন:
  • 3.6K
    Shares

You May Also Like