দলের কর্মীদের সহায়তা না পাওয়ায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন গোলাম মাওলা রনি

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র সপ্তাহখানেক বাকি থাকতেই নির্বাচন থেকে সরে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত সাবেক সাংসদ গোলাম মাওলা রনি। সাবেক এই সাংসদ ২০০৮ সালে পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সাংসদ থাকা অবস্থায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টাকা আত্মসাৎ, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং নানা অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কৃত হবার পর দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন সংগ্রহ করেও দল থেকে মনোনয়ন পাননি তিনি।  একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারো আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও বহিষ্কৃত এই নেতাকে মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ। মনোনয়ন না পেয়ে যোগ দেন বিএনপিতে। বিএনপি যোগদানে ব্যাপক আলোচনা সমলোচনার জন্ম দিয়ে ধানের শীষের টিকিট পেয়ে নির্বাচনের ষোলকলা পূর্ণ করেন আলোচিত সাবেক এই সাংসদ।

পটুয়াখালী-৩ আসনে মনোনয়ন পেলেও দলীয় সমর্থন নিয়ে শুরু থেকেই বিপত্তিতে পড়েন গোলাম মাওলা রনি। বিএনপিতে যোগ দেওয়া গোলাম মাওলা রনির মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দেন হাসান মামুনের সমর্থকেরা। এই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাসান মামুন।

গত ১৫ ডিসেম্বর গোলাম মাওলা রনির স্ত্রীর গাড়িতে হাসান মামুনের সমর্থকেরা হামলাও চালায়। আওয়ামী লীগ হতে বহিষ্কৃত হয়ে বিএনপিতে যোগ দেয়া গোলাম মাওলা রনিকে বিএনপির নেতা হিসেবে মানতে পারেনি স্থানীয় তৃণমূল বিএনপি কর্মীরা। গলাচিপা-দশমিনার বিএনপির ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে গোলাম মাওলা রনিকে মনোনয়ন দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয় স্থানীয় বিএনপি। এই আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মো. শাহজাহান খানেরও রোষানলের শিকার হন গোলাম মাওলা রনি। নির্বাচনী প্রচারণায় সব রকমের সহযোগিতা থেকে পিছিয়ে যান শাহজাহান খান ও হাসান মামুনের সমর্থকরা । টাকা দিয়ে শুরুতে দলে কর্মী ভিড়ালেও টাকার নিয়ে কর্মীদের মধ্যে কোন্দল শুরু হলে বিপাকে পড়ে গোলাম মাওলা রনি। কর্মীদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা সরবরাহ করতে না পারলে নির্বাচনী প্রচারণা থেকে সরে দাড়ায় কর্মীরা। কর্মী অসন্তোষে বিপর্যস্ত বিএনপি স্থানীয় নেতা-কর্মীদের রনির পক্ষে সক্রিয় করতে শুরু থেকেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে বিএনপির হাইকমান্ড। দফায় দফায় বৈঠক করে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে কাজ করতে নির্দেশনা দেওয়া হলেও সক্রিয় করা সম্ভব হয়নি কর্মীদের।

স্থানীয় বিএনপির অভিযোগ, গোলাম মাওলা রনির সাথে স্থানীয় বিএনপির কখনই কোনো যোগাযোগ ছিলনা। এমনকি এলাকায় বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতাকর্মীদের সঙ্গেও তার কোনো সম্পর্ক নেই। এ অবস্থায় এই আসনে ‘চাপিয়ে দেওয়া’ প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা কঠিন।

এছাড়া এই আসনে এক সময় আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির হয়ে ভোট চাওয়ায় ভন্ড ও সুবিধাবাদী আখ্যা দিয়ে গলাচিপা-পানপট্টি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ গোলাম মাওলা রনিকে সে এলাকায় অবাঞ্চিত ঘোষনা করে। একদিকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রতিরোধ ও কর্মী অসন্তোষ এবং অন্যদিকে সাধারণ ভোটারদের কাছে নিজের জনপ্রিয়তা হ্রাস পাওয়ায় নির্বাচনী প্রচারণায় সুর হারিয়ে ফেলা সাবেক এই সাংসদ বিএনপির নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবার ঘোষণা দিয়েছেন।

শেয়ার করুন:
  • 2.9K
    Shares

You May Also Like