২৮ ডিসেম্বরে বড় হামলা ও সহিংসতার প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি-জামায়াত

পাকিস্তান ও জঙ্গিদের মতো দেশবিরোধী শক্তির সাথে আঁতাত করে অনেক আগে থেকেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছোটখাটো সহিংসতা চালাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত জোট। বরাবরই জনগণকে বিভ্রান্ত করতে সমস্ত হামলার দোষ প্রতিপক্ষ দলগুলোর ওপর চাপালেও সম্প্রতি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। গোয়েন্দা সূত্রে জানিয়েছে, বিএনপি-জামায়াত সরকারবিরোধী শক্তির সাথে হাত মিলিয়ে ভোটের আগেই বড় ধরণের সহিংসতা চালানোর মাস্টারপ্ল্যান করে জনগণকে লক্ষ্যবস্তু করে এগুচ্ছে।

বিএনপি-জামায়াত তাদের নির্বাচনি প্রচারে নামার থেকে বরং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সহিংস করে তোলার জন্য পরিকল্পনা তৈরি ও বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিয়েছে বলে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছে।

সূত্রে জানা যায়, আসছে ২৮ ডিসেম্বরকে শেষ টার্গেট ধরেই নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে দীর্ঘ ১২ বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাইরে থাকা দলগুলো। পরিকল্পনাকারীরা ভেবে রেখেছেন সারাদেশে যখন সহিংসতা শুরু হবে ঠিক তখনই জঙ্গিদের দিয়ে হামলার জন্য আলাদা একটি গ্রুপকে কাজে লাগানো হবে। কোথায় কোথায় হামলা করতে হবে সে বিষয়ে জঙ্গিদের হাতে এরই মধ্যে বিশেষ তালিকা দিয়েছে বিএনপি জোট।

বিশেষ করে পুলিশ বাহিনী, দেশের উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা এমনকি বিদেশি কূটনৈতিকদের হত্যার ষড়যন্ত্রের একাধিক ছক বিএনপি-জামায়াতের হাতে রয়েছে বলে গোয়েন্দারা বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছেন।

পুলিশ তথা ও বাহিনীগুলোর উর্ধ্বতনরা জানিয়েছেন, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচনে সকল ধরনের সহিংসতা প্রতিহত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এরইমধ্যে নিয়েছেন।

নির্বাচন সুষ্ঠু করার লক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আজ সোমবার ২৪ ডিসেম্বর নির্বাচনী মাঠে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কিন্তু গোয়েন্দারা জানতে পেরেছে যে, সেনাবাহিনী মোতায়েনের পর থেকে দেশের পরিস্থিতি অশান্ত করার জন্য বেশ কয়েকটি শক্তিশালী সহিংসতা ও হামলার চেষ্টা করবে দল দুটির অনুসারিরা।

সূত্র জানায়, জনগণকে ধোঁকার মধ্যে রেখে তাদের কার্যক্রম চুপিসারে এগিয়ে নিতে আগামী ২৭ ডিসেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে। ওই সমাবেশের পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলার চেষ্টা চলবে এবং ২৮ ডিসেম্বরকেই শেষ টার্গেট হিসেবে রাখা হয়েছে।

গোপন পরিকল্পনা জানতে পেরেছেন এমন একাধিক দায়িত্বশীল গোয়েন্দা সূত্রে, সহিংসতার পরিকল্পনার মূল তালিকায় দেশের সকল বিভাগীয় শহরগুলো থাকলেও বিএনপি-জামায়াতের এই পরিকল্পনায় রাজধানী ঢাকাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আর এর কৌশলগত কারণেই ২৭ ডিসেম্বর ঢাকায় সমাবেশ ডাকা হয়েছে।

সূত্র জানায়, সমাবেশের বাহানায় ঢাকার বাইরে থেকে অনেক নেতা-কর্মী ও সমর্থক ঢাকামুখি হবে। কিন্তু সমাবেশ শেষে এদের বড় একটি অংশ পুরো ঢাকায় ছড়িয়ে পড়বে এবং সেখানকার বিএনপি জামায়াতের বিভিন্ন গোপন আস্তানায় লুকিয়ে পড়বে। পরবর্তীতে দলের শীর্ষ নেতাদের ইশারা পাওয়া মাত্রই ২৮ ডিসেম্বর সকাল থেকে জড়ো হবেন পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে। সেখান থেকে বড় আকারের শোডাউনের পর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন অভিমুখে যাত্রা শুরু করবে। যাত্রার সময়কালেই নাশকতার চেষ্টা চালানো হবে। যেখানে প্রধান লক্ষ্য বস্তু হিসেবে জনগণ ও পুলিশ থাকবে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, এদিন বিএনপি-জামায়াতের মূল উদ্দেশ্য হবে, পুলিশের মনবল ভেঙ্গে দিয়ে তাদের ভেতর আতঙ্ক সৃষ্টি করা। রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে ওই দিন পুলিশের সাথে সংঘর্ষের পরিকল্পনা রয়েছে এই সহিংস জোটের। তবে ঢাকার পাশাপাশি বিভাগীয় শহর চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর ও সিলেট এলাকায় মিছিল করে পুলিশের ওপরে হামলার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।

সূত্র জানায়, আগেভাগেই টার্গেটেড হত্যার তালিকা জঙ্গিদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। হত্যার ওই তালিকায় পুলিশ, বিজিবি, বিচারক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, নির্বাচন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, বিদেশি কুটনীতিক ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম রয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।

শেয়ার করুন:
  • 30.8K
    Shares

You May Also Like