চিকিৎসায় বয়ষ্কদের ‘সিনিয়র সিটিজেনশিপ’ সুবিধা দিবে সরকার

এক বক্তব্যে সরকারি বিভিন্ন বিভাগগুলোতে দেশের বয়ষ্ক মানুষদের যথাযথ সহজ সুবিধা দেয়ার এক পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন রাষ্ট্রপ্রতি আবদুল হামিদ। গত ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মধ্য দিয়ে গঠিত বর্তমান শেখ হাসিনা সরকার রাষ্ট্রপতির সেই বক্ত্যব্যে একটি অংশ বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নিয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে ৬৫ বছরের ওপরে সকল বয়স্ক ব্যক্তির জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।

গত টানা তিন মেয়াদে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ৬৫ বছরের উর্ধ্বে সকল বয়স্ক ব্যক্তির জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক।
বৃহষ্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সরকারের এমন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর বয়ষ্কদের মধ্যে এক ধরণের উদ্দিপনা লক্ষ্য করা গেছে। একইসাথে দেশের অভিজ্ঞ মেধাবীদের সম্মানে সরকারের এমন সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে গুণিজনেরা বলেছেন এটি ‘মহৎ সিদ্ধান্ত।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ‘চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী হওয়ার প্রবণতা কমাতে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার উপর জনগণের আস্থাকে আরো মজবুত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করবে। একই সাথে দেশের অভ্যন্তরে বয়ষ্ক ব্যক্তিদের চিকিৎসা বিনামূল্যে দেয়ার পরিকল্পনা সরকারের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে।’

একইসাথে কারো প্রতি বৈষম্য না করে বয়ষ্ক রোগীদের জন্য সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে তাঁদের সেবায় আত্মনিয়োজিত হওয়ার জন্য নতুন এমবিবিএস শিক্ষার্থী ও বর্তমান ডাক্তারদের পরামর্শ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এ বিষয়ে জাহিদ মালেক বলেন, ‘সমগ্র বিশ্বের মতো বাংলাদেশকেও অসংক্রামক রোগের ব্যপকতার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। দেশে ক্যান্সার, কিডনীজনিত রোগ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস রোগের প্রকোপ বাড়ছে। প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওপেন হার্ট সার্জারীর সুযোগ সৃষ্টি করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে অবস্থান করে সেবা প্রদানে চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, ‘দেশে বড় বড় হাসপাতাল তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু গ্রামে যদি চিকিৎসক না থাকে তবে সরকারের সব উদ্যোগ ব্যর্থ হয়ে যাবে।’

শেয়ার করুন:
  • 176
    Shares

You May Also Like