কৃষিবিদ ‘কৃষিমন্ত্রী’ পেল বাংলাদেশ

ভোলা কমান্ডার হিসেবে খ্যাত নবনিযুক্ত খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের এ সম্মুখযোদ্ধা বারংবার সিক্ত হয়েছেন সম্মানে, ভালোবাসায়। নিজ কর্মগুণে পরিণত হয়েছেন দেশের অন্যতম সজ্জন, পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অসংখ্য অর্জন রয়েছে সফল এই মানুষটির। তবে আজও তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন হিসেবে অভিহিত করেন বঙ্গবন্ধুর একান্ত সান্নিধ্য পাওয়াকে। তাই হাজার বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রসঙ্গ উঠলেই আবেগাপ্লুত হয়ে যান বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদ।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও টাঙ্গাইল-১ আসনের টানা ৪ বারের সংসদ সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার মুশুদ্দি গ্রামে ১৯৫৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম জালাল উদ্দিন এবং মাতার নাম রেজিয়া খাতুন।
তিনি ১৯৭১ সালে তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং ১৯৭২ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পারডু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পিএইচডি অর্জন করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পর তিনি যুক্তরাজ্যের অ্যাঞ্জেলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়েও পড়ালেখা করেছেন। বাংলাদেশে ফার্মিং সিস্টেম রিসার্চ ও স্থায়ী গ্রামীণ কৃষি উন্নয়ন বিষয়ে তিনি অন্যতম একজন বিশেষজ্ঞ।

রাজ্জাক বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনে (বিএডিসি) একজন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু করেন এবং ২০০১ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা পরিষদের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি জীবন শেষ করেন।

মুক্তিযোদ্ধা ড. আব্দুর রাজ্জাক টাঙ্গাইল-১ আসন থেকে ২০০১ সালে অষ্টম সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী ছিলেন ফকির মাহবুব আনাম স্বপন। তিনি তৃতীয় হয়েছিলেন। দ্বিতীয় হয়েছিলেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী খন্দকার আব্দুল গফুর মন্টু। অবশ্য স্বপন এবং মন্টু মিলে যে ভোট (৫৩৫০৯+৪০৯৭২=৯৪৪৮১) তার চেয়ে বেশি ভোট (৯৮৪১৩) পেয়েছিলেন ড. আব্দুর রাজ্জাক। নির্বাচনে জয়লাভের পর ড. রাজ্জাক দলের কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পান।

৯ম সংসদ (২০০৮) নির্বাচনে দ্বিতীয় বারের মতো নির্বাচিত হন ড. আব্দুর রাজ্জাক। বিএনপির প্রার্থী ছিলেন ফকির মাহবুব আনাম স্বপন। ভোটের ব্যবধান ছিল ৮২,৫৬১। আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে তাকে খাদ্য এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী করা হয়। সফল মন্ত্রী হিসেবে তার সুনাম রয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুযারি ১০ম সংসদ নির্বাচনে তৃতীয়বারের মতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এবার একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে চতুর্থবারের মতো এ আসন থেকে বিজয়ী হলেন।

স্বীয় কর্মদক্ষতায় তিনি পরিণত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অন্যতম আস্থাভাজন ব্যক্তিত্বে। তাঁর সময়কালেই বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা পায়।
২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে শেখ হাসিনার চতুর্থ মন্ত্রিসভায় তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয়ে একজন কৃষিবিদ মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের নজির স্থাপিত হলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই সিদ্ধান্ত প্রশংসিত হচ্ছে সর্বত্র।

শেয়ার করুন:
  • 174
    Shares

You May Also Like